Micro Credit in Bangladesh: An Analysis and ExaminationMicroloan

বাংলাদেশের দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকা:একটি পরীক্ষণ ও মূল্যায়ন

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের ভূমিকা

ভূমিকা:

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় ধরে দারিদ্র্য ছিল এর প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর প্রায় ২০২৫ বছর (১৯৭১১৯৯৫) সময়কে সবচেয়ে বেশি চরম বা অতি দারিদ্র্যের সময়কাল বলা যায়। বিশেষ করে ১৯৭১ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত সময় ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ দারিদ্র্যের যুগ।

 

৭০-৮০ দশকে দেশের একটি বড় অংশ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেছিল, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা, বেকারত্ব, ভূমিহীনতা এবং নারীর অর্থনৈতিক বঞ্চনা ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা।

তারপর, ১৯৯০এর দশক থেকে স্বৈরশাসকের পতনের পর থেকে বড় পরিবর্তন আসে। তখন দেশ উন্নয়নের পথে পথ বাড়ায়। বিশেষ করে, যখন-

  • গার্মেন্টস শিল্প শুরু হয়;
  • প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধি পায়;
  • কৃষিতে সবুজ বিপ্লব শুরু হয়;
  • গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক ইত্যাদি এনজিও এর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋন প্রদান শুরু হয়;
  • নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আসে, তখন থেকেই অতি দারিদ্র কমতে শুরু হয়।

এই প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র ঋণ (Microcredit) একটি বিকল্প উন্নয়ন দর্শন হিসেবে আবির্ভূত হয়, যা দারিদ্র্য বিমোচনে শুধু অর্থ নয়, ক্ষমতায়ন (empowerment)-এর ধারণাও যুক্ত করে।

বাংলাদেশে প্রথম ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে গ্রামীণ ব্যাংক (. মুহাম্মদ ইউনূস), ১৯৭৬ সালে।

 

১৯৭৬ সালে অধ্যাপক . মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে দরিদ্র নারীদের ছোট অঙ্কের ঋণ দেন কোনো জামানত ছাড়াই, এটাই ছিল বিপ্লবী ধারণা। পরে, ১৯৮৩ সালে গ্রামীণ ব্যাংক একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সারাদেশে ক্ষুদ্রঋণ ছড়িয়ে পড়ে।

 

তবে, ১৯৭২ সালে BRAC, শুরুতে ত্রাণ পুনর্বাসন সংস্থা হিসাবে কাজ শুরু করে, প্রথমে, খাবার স্যালাইন দিয়ে শুরু করলেও পরে অন্যান্য কার্যক্রমের পাশাপাশি ১৯৭০–৮০ দশকে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় NGO–MFIs-এর একটি এটি। কিন্তু প্রথম ক্ষুদ্রঋণ—এই কৃতিত্ব ঐতিহাসিকভাবে গ্রামীণ ব্যাংকের

 

২০০৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক

যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান “দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্রঋণের ভূমিকা”র জন্য। বিশেষত ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংকের হাত ধরে ক্ষুদ্র ঋণ আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হয় এবং বাংলাদেশ হয়ে ওঠে “মাইক্রোক্রেডিট ল্যাবরেটরি”।

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৪০.০০ মিলিয়ন লোক ক্ষুদ্র ঋণ গ্রাহক আছে যেখানে মোট ঋণের পরিমান প্রায় ১ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এই বিপুল জনসংখ্যার সাথে জড়িত বিপুল পরিমাণ ঋণ যেমন-তেমন ভাবে চলতে পারে না। এর জন্য অবশ্যই গবেষণা দরকার। নিম্মে একটি সংক্ষিপ্ত গবেষণা তুলে ধরা হলো যা Micro Credit Regulatory Authority, Bangladesh Bank, NGO Bureau এর দৃষ্টিতে আনা জরুরী।

 

ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা বিকাশ:

ক্ষুদ্র ঋণ কী?

যে কোন কাজে মূলধন একটি অত্যাবশকীয় অর্থ যার মাধ্যমে পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য হয়ে উঠে। আর নিম্ম আয়ের মানুষের যেমন ব্যাক্তিগত প্রকল্প ক্ষুদ্র হয়, তাদের জন্য দরকার হয় ক্ষুদ্র ঋণ। ক্ষুদ্র ঋণ হলো এমন একটি আর্থিক ব্যবস্থা, যেখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে ভূমিহীন, স্বল্প আয়ের পূরুষ ও নারী, জামানত ছাড়াই ক্ষুদ্র অঙ্কের ঋণ পায়। এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:

  • জামানতবিহীন ঋণ;
  • দলভিত্তিক দায়বদ্ধতা;
  • নিয়মিত কিস্তিতে পরিশোধ;
  • আয়মুখী কর্মকাণ্ডে বিনিয়োগ;
  • সামাজিক শৃঙ্খলা ও সচেতনতা সৃষ্টি।

 

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ঋণ আন্দোলনের সূচনা:

১৯৭৬ সালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস চট্টগ্রামের জোবরা গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম শুরু করেন। পরে এটি গ্রামীণ ব্যাংক হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। পাশাপাশি BRAC, ASA, Proshika, TMSS প্রভৃতি এনজিও ক্ষুদ্র ঋণকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করে।

 

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায়  কোটি মানুষ সরাসরি ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রমের সাথে যুক্ত এবং মোট ঋণ বিতরণ কয়েক লক্ষ কোটি টাকার বেশি আর গ্রাহকদের প্রায় ৯০% নারী।

 

দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণের ইতিবাচক ভূমিকা: পরীক্ষণমূলক বিশ্লেষণ

 

. আয় কর্মসংস্থান বৃদ্ধি:

ক্ষুদ্র ঋণ দরিদ্র মানুষের জন্য আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কৃষি, হাঁস-মুরগি পালন, গবাদি পশু, ক্ষুদ্র ব্যবসা, সেলাই, হস্তশিল্প ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বহু পরিবার নিয়মিত আয় করতে পেরেছে।

 

সরেজমিনে পরীক্ষণমূলক ফলাফল: বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণকারী পরিবারের আয় গড়ে ১৫৩০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, মৌসুমি বেকারত্ব কমেছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে।

 

. নারীর ক্ষমতায়ন সামাজিক পরিবর্তন:

ক্ষুদ্র ঋণের সবচেয়ে বড় অবদান হলো নারীর অর্থনৈতিক সামাজিক ক্ষমতায়ন। যেখানে নারীরা পরিবার ও সমাজে অবহেলিত ছিল, আজ তারা নিজে উদ্যোক্তা হিসাবে আত্মপরিচিত হচ্ছে, স্বাবলম্ভী হচ্ছে।

 

নারীরা প্রথমবারের মতো অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে অংশ নিচ্ছে, পরিবারের ব্যয়, সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে প্রভাব রাখছে এবং আত্মসম্মান ও শক্ত সামাজিক অবস্থান অর্জন করছে।

গবেষণায় দেখা যায়, ক্ষুদ্র ঋণপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে শিশু বাল্যবিবাহের প্রবণতা তুলনামূলক কম, মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার হার বেড়েছে এবং পারিবারিক সহিংসতা কিছু কিছু ক্ষেত্রে কমেছে।

 

. ভোগ জীবনমান উন্নয়ন:

ক্ষুদ্র ঋণ সরাসরি শুধু উৎপাদন নয়, ভোগের স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র ঋণের প্রভাবে খাদ্য গ্রহণের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বেড়েছে, দুর্যোগকালে যথা বন্যা, খরায় টিকে থাকার সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ঘরবাড়ি, স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবহার বেড়েছে।

 

. আর্থিক অন্তর্ভুক্তি:

ক্ষুদ্র ঋণ দরিদ্র মানুষকে আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। এখন তারা সঞ্চয় হিসাব খুলছে, ক্ষুদ্র বীমা নিচ্ছে, মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে ব্যবস্যা সম্প্রসারণ করছে এবং ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণ করছে। এভাবে তারা ধীরে ধীরে ব্যাংকিং ব্যবস্থার অংশ হয়েছে।

 

৫.আত্মনির্ভরতার সংস্কৃতি:

ত্রাণ নয়, ঋণ এই দর্শনে দারিদ্র্য মানুষকে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে হাঁটতে উৎসাহিত করছে ক্ষুদ্র ঋণ। এতে মানুষের অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা কমেছে, কাজের প্রতি দায়বদ্ধতা বেড়েছে, এবং “আমি পারি” এই মানসিকতা তৈরি হয়েছে এবং হচ্ছে।

 

.গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি:

ক্ষুদ্র ঋণ গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি এনেছে। এই ঋণ

গ্রামে নগদ প্রবাহ বাড়িয়েছে, স্থানীয় বাজারকে সক্রিয় করেছে, এবং গ্রাম–শহর বৈষম্য কমাতে ভূমিকা রেখেছে।

 

৭.গ্রাম ও মুল অর্থনীতি দুরত্ব:

ক্ষুদ্র ঋন গ্রামের দরিদ্র অর্থনীতি ও দেশের মূল অর্থনীতির দূরত্ব কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। গ্রামের উৎপাদিত শহরে এনে বন্টন ব্যবস্থায় ভূমিকা রাখতে ক্ষুদ্র ঋণ বড় দায়িত্ব পালন করেছে।

 

 

দারিদ্র্য বিমোচনে সীমাবদ্ধতা সমালোচনামূলক মূল্যায়ন:

 

যদিও ক্ষুদ্র ঋণ বাংলাদেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, তবু এটি অলৌকিক সমাধান নয় এবং এটি একমাত্র ম্যাকানিজম নয়। তাছাড়া ক্ষুদ্র ঋনের কিছু গুরুতর সীমাবদ্ধতাও রয়েছে।

নিম্নে ক্ষুদ্র ঋণের সীমাবদ্ধ সমূহ আলোচনা করা হলো:

 

. উচ্চ সুদের হার

ক্ষুদ্র ঋণের সবচেয়ে বড় সমালোচনা হলো অতি সুদ বা সুদের হার অনেক বেশি। অনেক এনজিওর ক্ষুদ্র ঋণের কার্যকর সুদের হার ২০৩০% বা তারও বেশি বলে অনেকের ধারণা। ফলে দরিদ্র মানুষ ঋণ শোধ করতে গিয়ে আবার ঋণের ফাঁদে পড়ে, প্রকৃত লাভ কমে যায় এবং আয় সৃষ্টি না হলে ঋণ বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। এতে ক্ষুদ্র ঋণের প্রকৃত সুবিধা পাওয়া যায়না বলে অনেকে মত দিয়েছেন।

 

. অতিরিক্ত ঋণগ্রহণ:

ক্ষুদ্র ঋণের এখন পর্যন্ত কোন কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ নাই, ফলে একজন বেনিফিশিয়ারী কয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে তার কোন রেকর্ড পাওয়া যায়না। একই ব্যক্তি একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেয়। এতে তার ঋণ আয়ের কাজে সবসময় ব্যায় হয় না। তাতে গ্রাহক অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ করে এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে কিস্তি পরিশোধের চাপ, মানসিক চাপ ও সামাজিক সংকট এবং উৎপাদন নয়, ঋণ শোধের জন্য ঋণ নিয়ে সমস্যায় পড়ে এবং ঋণের কার্যকারিতা হারিয়ে যায়।

 

. সবচেয়ে দরিদ্রদের অন্তর্ভুক্তি সীমিত:

ক্ষুদ্র ঋণ মূলত “near poor” বা অপেক্ষাকৃত সক্ষম দরিদ্রদের জন্য বেশি কার্যকর। চরম দরিদ্ররা অনেক সময় ঋণ থেকে বঞ্চিত হয়। অতি দরিদ্র গ্রাহকদের পাশে ঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান দাঁয়ায় না বলে তারা ঋণ ব্যবহারে অভিঙ্ঘ হয়ে উঠে না, নিয়মিত কিস্তি দিতে পারে না, ঝুঁকি নিতে অক্ষম এবং কর্মসূচির বাইরে থেকে যায়।

 

. উৎপাদনশীলতার সীমা:

ক্ষুদ্র ঋণ, গ্রাহকের অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক ক্ষেত্রে শুধু মাত্র ক্ষুদ্র ব্যবসার মধ্যেই আবদ্ধ থাকে, বড় শিল্প বা উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে যেতে পারে না, তাই অর্থনৈতিক কাঠামোগত রূপান্তর ঘটাতে গ্রাহকগন ব্যর্থ হয়।

 

সাম্প্রতিক গবেষণা মিশ্র ফলাফল:

সাম্প্রতিক সময়ে, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গবেষণায় ক্ষুদ্র ঋণের প্রভাব নিয়ে মিশ্র ফলাফল পাওয়া যায়। কিছু গবেষণা বলে, আয় ও দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে আবার অন্য গবেষণায় বলা হয়, দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব সীমিত, তবে প্রায় সব গবেষণাই একমত যে, ক্ষুদ্র ঋণ একা দারিদ্র্য দূর করতে পারে না, তবে এটি একটি কার্যকর সহায়ক হাতিয়ার

 

ক্ষুদ্র ঋণ বনাম সমন্বিত উন্নয়ন পদ্ধতি:

সমন্বিত উন্নয়ন ছাড়া কখনো কোন উন্নয়ন দীর্ঘ সময় সুফল দিতে পারে না। অর্থনীতির ক্ষেত্রে এটা খুবই অকাট্য। তাই, দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ সবচেয়ে কার্যকর হয় যখন এটি যুক্ত হয়:

  • শিক্ষা;
  • স্বাস্থ্য;
  • দক্ষতা উন্নয়ন;
  • সামাজিক সুরক্ষা;

বাজার সংযোগ ইত্যাদির সাথে। সুফল পেতে গেলে অবশ্যই এসব কিছুকে একসাথে রাখতে হবে। BRAC-এর Graduation Model এর একটি সফল উদাহরণ, যেখানে ক্ষুদ্র ঋণ নয়, বরং ধাপে ধাপে সক্ষমতা তৈরির মাধ্যমে মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করা হয়।

 

ভবিষ্যৎ করণীয় নীতিগত সুপারিশ:

ভবিষ্যতে ক্ষুদ্র ঋণ থেকে পুরোপুরি সাফল্য পেতে গেলে নিম্মলিখিত নীতি সমূহের সাথে নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন:

১. সুদের হার যৌক্তিক করা;

২. ঋণ নয়, উদ্যোক্তা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া;

৩. চরম দরিদ্রদের জন্য অনুদান ও সামাজিক সুরক্ষা;

৪. ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার;

৫. একাধিক ঋণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ;

৬. উৎপাদনশীল খাতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ।

 

উপসংহার

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৫% জনসাধারণ ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহন করেছেন যা অবশ্যই দেশের মোট জনসংখ্যার ভাল অংশ। তাই, ক্ষুদ্র ঋণের ব্যাপারে অবশ্যই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। দারিদ্র্য বিমোচনে ক্ষুদ্র ঋণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্ভাবন। এটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মনির্ভরশীল করেছে, নারীর ক্ষমতায়ন ঘটিয়েছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করেছে। তবে এর সীমাবদ্ধতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

 

সঠিক নীতি, নৈতিকতা ও সমন্বিত উন্নয়ন কাঠামোর মধ্যে ক্ষুদ্র ঋণ থাকলে এটি দারিদ্র্য বিমোচনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, কিন্তু একে কখনোই একমাত্র সমাধান হিসেবে দেখা উচিত নয়। দারিদ্র্য বিমোচন কেবল ঋণের বিষয় নয়, এটি মানুষের সক্ষমতা, মর্যাদা ও সম্ভাবনার মুক্তির প্রশ্ন।

Mohammed Shahid Ullah

Mohammed Shahid Ullah, FCA is a senior finance and banking professional with over 30 years of experience across commercial banking, insurance, and non-government organizations. He currently serves as Deputy Managing Director (DMD) and Chief Financial Officer (CFO) of a leading commercial bank in Bangladesh.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button