Blogs & StoriesFailure & GrowthFaith & PurposeHappiness & PainLife & AgingReflectionsSilence & SolitudeSocietyStories

খাতার ভাঁজে লুকানো নাম

পুরনো খাতাটি dusty আলমারির মধ্যে পড়ে ছিল। ছেলেটি, অরিজিত, এটি আজ খুঁজে পেল। একটি খাতার ভাঁজে লেখা নাম—হাতের কাঁচা লেখা, যা বহু বছর পরেও স্পষ্ট।

নামটি ছিল “সায়মা”।

অরিজিত তা দেখে থমকে গেল।

১.

স্কুল জীবনের স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসে। ছোট্ট স্কুলের ক্লাস, প্রথম ভালোবাসার দিন। সায়মা—তার প্রথম বন্ধু, প্রথম শ্রদ্ধা, প্রথম ভালোবাসা।

তাদের সম্পর্ক ছিল সরল, নির্দোষ। ক্লাসের বেঞ্চে বসে একে অপরকে পড়াশোনা শেখানো, স্কুলের মাঠে খেলা, খোলা আকাশের নীচে গল্প বলা। কোনো দিনও তারা বুঝতে পারেনি—এ সম্পর্ক বড় হয়ে যাবে।

একদিন সায়মা অন্য শহরে চলে গেল। অরিজিতের স্কুল জীবন ফাঁকা হয়ে গেল। কিন্তু খাতার পাতা ভাঁজে লেখা নাম তার সাথে থেকে গেল।

২.

আজ, বহু বছর পরে, অরিজিত চাকরি করছে। শহরের ভিড়, অফিসের আলো, মিটিং, রিপোর্ট—সব কিছু তাকে ভরে রাখে। কিন্তু সেই খাতা হাতে নিলে তার মন মুহূর্তের জন্য থেমে যায়।

পাঁচ মিনিটের জন্য। দুই দশকের জন্য। স্মৃতি জীবন্ত হয়ে আসে।

সে খাতার নামগুলোকে স্পর্শ করে। কাঁচা হাতের লেখা। অদ্ভুতভাবে পরিচিত। যেমন সায়মা তখন তাকে চুপচাপ হাসত।

অরিজিত বুঝতে পারে—কিছু স্মৃতি কখনো হারায় না। সে শুধু ভেতরে লুকানো থাকে।

৩.

ফলে, অফিসের বসার চেয়ার, কম্পিউটার, ফোন—সব ঝাপসা হয়ে যায়। সে মনে করে—স্কুলের সেই ক্লাসরুম, লোহার বেঞ্চ, মাঠের ধুলো, গরম দুপুরের সূর্য।

একদিন, সে বন্ধুর কাছে বলেছিল, “আমি তার নাম ভুলি নি। মনে আছে, খাতার ভাঁজে লেখা ছিল।” বন্ধু হেসে বলেছিল, “তুই কি এত আবেগী?”

কিন্তু অরিজিত জানত—নাম শুধু নাম নয়। সে স্মৃতির চাবিকাঠি।

৪.

স্মৃতি শুধু সুখ নয়। ব্যথাও থাকে।

যখন সায়মা চলে গেছে, অরিজিত কখনো ভেবেছে, কেন সে একেবারে চলে গেল। কোন চিঠি, কোন ফোন, কিছুই ছিল না। ক্লাসের প্রিয় বন্ধু হয়ে, হঠাৎ সব হারিয়ে যায়।

এই ব্যথা তাকে আজও জাগ্রত রাখে। সে তখন বুঝেছে—স্মৃতি সবসময় সুখের সঙ্গে আসে না। কখনও দমবন্ধ করা ব্যথা নিয়ে আসে।

৫.

একদিন, অফিস থেকে ফিরে, অরিজিত খাতার পাতা খুঁজে বের করল। ভাঁজের মধ্যে নামটা এখনো আছে। হৃদয় স্পন্দিত। একটা অদ্ভুত শান্তি।

সে নামের পাশে একটি ছোট নোট দেখল—ছোট হাতে লেখা। “আমরা আবার দেখা করব না। কিন্তু তুমি বন্ধু।”

নোট পড়ে অরিজিত হেসে দিল। যেমন সায়মা তখন হেসেছিল। শুধু নামেই নয়—ভবিষ্যৎ, বন্ধুত্ব, স্মৃতি সবই লেখা।

৬.

স্মৃতি কখনো ধ্বংস হয় না। সে শুধু ভেতরে থাকে। অরিজিত খাতাটা আবার আলমারিতে রাখল। কিন্তু এইবার ভয় নেই।

সে জানে—নাম ভোলা যায় না। মুখোমুখি দেখা হয় না। কিন্তু ভেতরের অনুভূতিটি চিরকাল থাকে।

যেমন—বন্ধুত্ব, প্রথম ভালোবাসা, প্রথম আঘাত। সব স্মৃতি একটি নামের সাথে থাকে।

৭.

স্মৃতির শক্তি বোঝার জন্য তার বেশি কিছু লাগে না। একটি নাম। একটি ভাঁজ। এবং ধীরে ধীরে ফিরে আসা অনুভূতি।

অরিজিত বুঝল—স্মৃতি ধীরে ধীরে মানুষকে তৈরি করে। স্মৃতি ছাড়া জীবনের কোন রঙ নেই। স্মৃতি ছাড়া হাসি নেই। স্মৃতি ছাড়া নিজেকে জানা যায় না।

৮.

সন্ধ্যার আলো। ঘরে শান্তি। অরিজিত খাতাটি হাতে নিয়ে জানালার কাছে বসে। চোখ বন্ধ করে নামটি মনে রাখল। “সায়মা।”

কেন জানে না। কিন্তু মনে হল—সব ঠিক আছে। স্মৃতি এসেছে, বেঁচে আছে। সবকিছু হারানো হলেও, এই নাম আছে।

নামের ভেতর আছে—শুধু বন্ধু নয়, জীবন, প্রেম, শেখা, ব্যথা, আনন্দ।

অরিজিত হালকা হাসল। নিজেকে বলল—“তুমি একা নও। স্মৃতি আছ। আর স্মৃতি চিরকাল থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button