সাহেব প্রতিদিন সকালে হাঁটতে বের হয়।
একদিন সে হঠাৎ লক্ষ্য করল, তার ছায়া যেন তার সাথে তাল মিলাচ্ছে না।
সে থেমে গেল।
ছায়াটাও থেমে গেল…
কিন্তু এবার ছায়া নিজেই কথা বলল।
“তুমি কি আমাকে কখনো চিনতে চেয়েছো?”
সাহেব অবাক।
ছায়া বলল, “তুমি সারাজীবন আলো খুঁজেছো,
কিন্তু অন্ধকারকে ভয় পেয়েছো কেন?”
সাহেব বলল, “অন্ধকার মানে ভয়, অনিশ্চয়তা।”
ছায়া হেসে বলল, “না, অন্ধকার মানে তুমি নিজেকে দেখতে পাও।”
ছায়া বলল, “তুমি যা দেখাও, তা তুমি না।
তুমি যা লুকাও, সেটাই তুমি।”
সাহেব চুপ।
সে মনে করতে লাগল, তার ভেতরের ভয়, ব্যর্থতা, লোভ, অহংকার, যেগুলো সে সবসময় লুকিয়ে রাখে।
ছায়া আবার বলল,
“তুমি কি সফল হতে চাও,
নাকি সত্যিকারের হতে চাও?”
সাহেব বসে পড়ল।
সে বলল, “আমি ক্লান্ত…
মানুষের সামনে ভালো থাকার অভিনয় করতে করতে।”
ছায়া ধীরে বলল, “নিজেকে গ্রহণ করো।
অপূর্ণতাই তোমাকে মানুষ বানায়।”
সূর্য উঠতে শুরু করল।
আলো বাড়ার সাথে সাথে ছায়া ছোট হতে লাগল।
ছায়া চলে যাওয়ার আগে বলল,
“যখন তুমি নিজেকে চিনবে,
তখন আমাকে আর খুঁজতে হবে না।”
সাহেব উঠে দাঁড়াল।
তার মুখে শান্তির হাসি।
আজ প্রথমবার,
সে নিজের সাথে একা,
কিন্তু আর নিঃসঙ্গ না।
আমরা আলো খুঁজি, কিন্তু ছায়া থেকেই নিজেদের চিনতে পারি, নিজের দুর্বলতাকে গ্রহণ করাই সত্যিকারের শক্তি
“নিজেকে জানা”—সবচেয়ে বড় অর্জন।