“হৃদয়ের সম্পর্ক লোকালই ভালো”
রাশেদ চুপ করে রইল… তারপর ধীরে ধীরে বলল, "Thank you, sir… এইটা আমি আজকে সত্যি শিখলাম।” ওয়েস্টার্ন কালচার ভালো, কিন্তু গ্রাহকের সাথে হৃদয়ের সম্পর্কটাই আসল, সেটা “লোকাল” হলেই সবচেয়ে শক্তিশালী।
ঢাকার এক নামকরা ব্যাংকে নতুন এক “স্মার্ট” অফিসার যোগ দিল। নাম তার রাশেদ। সে কিছুদিন আগে ট্রেনিং করে এসেছে ইউনাইটেড স্টেটস্ থেকে। এখন সে পুরোপুরি ওয়েস্টার্ন স্টাইলে কাজ করতে চায়, যেমম, “টাইম ইজ মানি”, “কাস্টমার ইজ বস”, “স্মাইল ইজ পাওয়ার” এসব মাথায় গেঁথে নিয়েছে।
একদিন সকালে এক গ্রাহক এলেন, হাফপ্যান্ট, গামছা, আর হাতে একটা পুরোনো ব্যাগ। তিনি কাউন্টারে এসে বললেন,
“বাবা, একটু বসতে দিবেন? তারপর কাজটা বলি।”
রাশেদ সাথে সাথে চেয়ার এগিয়ে দিয়ে বলল, “Sure sir! Please have a seat. How can I help you today?”
লোকটা একটু অবাক হয়ে বলল, “এই ইংরেজি কেন? আমি তো বাংলায় ঠিকই বুঝি!”
রাশেদ হেসে বলল, “We follow international standard, sir.”
লোকটা মাথা নেড়ে বলল, “ঠিক আছে, তাহলে আন্তর্জাতিকভাবেই বলি, আমার ৫০০ টাকার একটা নোট ছিঁড়ে গেছে, এটা কি ‘গ্লোবালি’ ঠিক করে দিবেন?”
রাশেদ একটু থমকে গেল, কিন্তু নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,
“Sir, you need to fill up a form.”
লোকটা বলল, “ফর্মটা কি বাংলায় আছে?”
“না sir, English only.”
লোকটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “তাহলে একটা কাজ করেন, আপনার এই ‘ইন্টারন্যাশনাল’ কলমটা দিয়ে আমার জায়গায় ফর্মটা পূরণ করে দেন। আমি ‘লোকাল’ মানুষ, বুঝি না!”
ফর্ম পূরণ শেষে রাশেদ খুব প্রফেশনাল ভঙ্গিতে বলল,
“Sir, your request will be processed within 3 working days.”
লোকটা হেসে বলল, “তিন দিন লাগবে? আরে বাবা, আমাদের গ্রামের দোকানদার তো সাথে সাথে টেপ মেরে ঠিক করে দেয়!”
রাশেদ একটু লজ্জা পেয়ে বলল, “Sir, that’s not the procedure…”
লোকটা উঠে দাঁড়িয়ে বলল, “বুঝলাম বাবা, তোমাদের এখানে কাজ কম, ‘প্রসিডিউর’ বেশি!”
বের হওয়ার সময় লোকটা আবার ফিরে এসে বলল, “একটা কথা বলি, তোমরা যতই ওয়েস্টার্ন হও না কেন, গ্রাহকের হাসিটা যেন লোকালই থাকে, সেটা ভুলে যেয়ো না!”
রাশেদ চুপ করে রইল… তারপর ধীরে ধীরে বলল, “Thank you, sir… এইটা আমি আজকে সত্যি শিখলাম।”
ওয়েস্টার্ন কালচার ভালো, কিন্তু গ্রাহকের সাথে হৃদয়ের সম্পর্কটাই আসল, সেটা “লোকাল” হলেই সবচেয়ে শক্তিশালী।